
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী অনুমোদনহীন ও অবৈধ ডাবল ডেকার স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) অভিযান পরিচালনা করছে।
তবে পুরোপুরি স্লিপার বাস চলাচল বন্ধ না করে নিরাপদ ও যুগোপযোগী একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বা গাইডলাইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন স্লিপার বাসের মালিক ও পরিবহন ব্যবসায়ীরা।
মালিকদের দাবি, যেসব স্লিপার বাস নিরাপত্তা ও অনুমোদনের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করছে না, সেগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু বৈধভাবে পরিচালিত ও বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে গড়ে ওঠা স্লিপার বাস সার্ভিস একেবারে বন্ধ করে দেওয়া হলে পরিবহন খাতের পাশাপাশি এর সঙ্গে জড়িত হাজারো শ্রমিক ও তাদের পরিবারের ওপর মারাত্মক আর্থিক চাপ তৈরি হবে।
পরিবহন মালিকরা জানান, অনেক মালিক ব্যাংক ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে এবং কিস্তিতে স্লিপার বাস কিনেছেন। গাড়ি বন্ধ হয়ে গেলে একদিকে যেমন নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে, অন্যদিকে গাড়ির মূল্য ও বিনিয়োগ হারিয়ে অনেক মালিক সর্বস্বান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
একই সঙ্গে চালক, সহকারী, সুপারভাইজার, কাউন্টারকর্মী, মেকানিকসহ স্লিপার বাসের সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে যুক্ত অসংখ্য শ্রমিকের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে। হঠাৎ করে সেবা বন্ধ হয়ে গেলে এসব শ্রমিকের পরিবারে নেমে আসতে পারে চরম অর্থনৈতিক সংকট।
মালিকপক্ষ বলছে, যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকার চাইলে স্লিপার বাস পরিচালনার জন্য নির্দিষ্ট মাপ, কাঠামো, অগ্নিনিরাপত্তা, জরুরি বহির্গমন ব্যবস্থা, ফিটনেস, রুট পারমিট ও অন্যান্য কারিগরি বিষয়ে সুস্পষ্ট গাইডলাইন তৈরি করতে পারে। এরপর নির্ধারিত সময় দিয়ে সব বাসকে নীতিমালার আওতায় আনার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।
তাদের মতে, এতে একদিকে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে বড় অংকের বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও পরিবহন সেবা হঠাৎ বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি কমবে।
স্লিপার বাস মালিকদের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, “সেবা বন্ধ নয়, প্রয়োজন সুশৃঙ্খল নীতিমালা। যারা নিয়মের বাইরে রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আর যারা বৈধভাবে ব্যবসা করছেন, তাদের নির্দিষ্ট সময় দিয়ে নতুন নীতিমালার আওতায় আনার সুযোগ দেওয়া হোক।”
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকার, বিআরটিএ ও স্লিপার বাস মালিকদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে একটি বাস্তবসম্মত ও যাত্রীবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন করা হলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবহন খাতের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানও রক্ষা করা সম্ভব হবে।