
নিজস্ব প্রতিবেদক:-
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন আদমজীনগর সিএনবি রোড এলাকায় পারিবারিক জমি ও দোকানঘরের ভাড়ার টাকা নিয়ে বিরোধের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ৮৫ বছর বয়সী এক নারীসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য তাদের স্বজন মো. সেলিমের বিরুদ্ধে জমি ও দোকানঘর জোরপূর্বক দখল, ভাড়ার টাকা আত্মসাৎ, চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগকারীরা হলেন—ছমিরুন নেছা (৮৫), রাবেয়া আক্তার (৩৬), সাহেদ বাদশার দুই ছেলে সাহস (২৭) ও স্বদেশ (৩১)। তাদের অভিযোগ, মৃত রঞ্জত আলী জীবিত থাকাকালে ২০০৭ সালে হেবা দলিলের মাধ্যমে সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীনগর এলাকায় ৬ শতাংশ জমি তাদের প্রদান করেন। ওই জমিতে থাকা দোকানঘর থেকে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া আদায় করে আসছিলেন অভিযুক্ত সেলিম (৫০)।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সেলিম প্রভাবশালী স্থানীয় ব্যক্তি রাব্বানী ও আলমগীরের সহায়তায় জোরপূর্বক দোকানঘরের ভাড়া আদায় করছেন। জমি ও দোকানঘরের দখল এবং ভাড়ার টাকা নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে অভিযোগকারীদের বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া, মানসিক ও শারীরিকভাবে হয়রানি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী ছমিরুন নেছা জানান, নিরাপত্তাহীনতার কারণে বর্তমানে তিনি তার মেয়ের বাসায় অবস্থান করছেন। গত ২৬ জুন রাত আনুমানিক ৮টার দিকে তিনি দোকানঘর থেকে ভাড়ার টাকা উত্তোলনের জন্য ঘটনাস্থলে গেলে সেখানে তার ছেলে সেলিম উপস্থিত হয়ে তাকে বাধা দেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ছমিরন নেছার অভিযোগ, একপর্যায়ে সেলিম তাকে মারধরের চেষ্টা করেন এবং ভবিষ্যতে ওই জমিতে গেলে কিংবা দোকান ভাড়ার টাকা চাইলে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেন।
অন্যদিকে, রাবেয়া আক্তারের অভিযোগ, তার ভাই সেলিম মুঠোফোনে তার কাছে ১২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেন। এ বিষয়ে তাদের মধ্যে মুঠোফোনে কথোপকথনের একটি ভয়েস রেকর্ড রয়েছে বলে দাবি করেন রাবেয়া।
সাহেদ বাদশার ছেলে সাহস অভিযোগ করে বলেন, তার চাচা সেলিম তাকে তাদের বাড়িতে থাকতে দেননি। এমনকি ২০১৬ সালে তিনি এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে গেলে বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হয় বলে দাবি করেন সাহস। পরে তিনি তার নানার বাড়িতে গিয়ে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া বিভিন্ন সময় তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগকারীরা জানান, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা ও পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও বিরোধের কোনো সুরাহা হয়নি। পরে নিরাপত্তা ও সম্পত্তির অধিকার রক্ষার জন্য তারা সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সেলিমের বক্তব্য জানতে গণমাধ্যমকর্মীরা একাধিকবার তার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের চেষ্টা করেন। তবে তার সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেলিম থানার দোহাই দিয়ে গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে কথা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে গণমাধ্যমকর্মী ১২ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সেলিম কোনো বক্তব্য না দিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এ সময় গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে সেলিমের কথোপকথনের একটি ভয়েস রেকর্ড প্রতিবেদনে তুলে ধরা হলো।
অভিযোগকারীদের দাবি, সেলিমের সঙ্গে তার বাবা মৃত রঞ্জত আলীর বিরোধ নতুন নয়। ২০১৩ সালে ও পারিবারিক বিরোধের জেরে সেলিম তার বাবাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় মৃত রঞ্জত আলী জীবিত থাকা অবস্থায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ২৪ জানুয়ারি তাকে ও তার স্ত্রীকে ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি করার কথা উল্লেখ রয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পারিবারিক সম্পত্তি, জমির দখল ও দোকান ভাড়ার টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।