
মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি- মুন্সিগঞ্জ সদরের উপজেলার মিরকাদিম পৌর গোয়ালঘুন্নি এলাকায় মোঃ উজ্জ্বল মুন্সীর বাড়িতে পারিবারিক স্বামী স্ত্রী বিরোধের ঘটনায় দুর্বৃত্তদের হামলা ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ।
গত রোববার (৩১ মে) বেলা দুপুর তিনটা ত্রিশে সদর উপজেলা মিরকাদিমে পারিবারিক বিরোধের ঘটনায় আহতরা হলেন, সোহাগ (৪০) সুমন (৫০) সনিয়া বেগম (৪৫) সালমা বেগম (৪৮) সামিয়া আক্তার (২০) সাকিব (২৫) আরও কয়কজনের উপরে গোয়ালঘুন্নি এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলার এ ঘটনা ঘটে।
এঘটনায় অভিযুক্ত মোঃ সাকিব বলেন, বিবাদী ১। মোঃ রায়হান (২১), পিতা- মোঃ সোহেল মুন্সী, ২। মোঃ সোহেল মুন্সী (৫৫), পিতা- অজ্ঞাত, ৩। মোঃ আলভী (২০), পিতা- মোঃ আল-আমিন, ৪। লায়লা বেগম (৫০), স্বামী- মোঃ সোহেল মুন্সী, সর্ব সাং- গোপালনগর, ৫। খোকন মোল্লা (৪০), পিতা- অজ্ঞাত, সাং- কাগজীপাড়া, সর্ব পৌরসভা- মিরকাদীম, থানা ও জেলা- মুন্সীগঞ্জ সহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছি যে, ১নং বিবাদী সম্পর্কে আমার শ্যালক, ২নং বিবাদী শ্বশুর, ৩নং বিবাদী মামাত শ্যালক, ৪নং বিবাদী শ্বাশুরী এবং ৫নং বিবাদী মামা শ্বশুর হয় বটে।
বিবাদীরা বিভিন্ন সময় আমার স্ত্রী লাবনী (২৪) কে আমার এবং আমার পিতার বাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে ফুসলাইয়া ও কোপ্ররোচনা দিয়া সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করে আসিতেছে। উল্লেখিত বিবাদীর আমাদের বিবাহিত সংসার নষ্ট করার পায়তারা সহ তুচ্ছ বিষয় নিয়া আমার এবং আমার পিতার বাড়ির সদস্যদের সাথে ঝগড়াঝাটিতে লিপ্ত হইয়া মারধর করার হুমকি প্রদান করে আসিতেছে। অদ্য ইং ৩১/০৫/২০২৬ তারিখ বেলা অনুমান ৩.৩০ ঘটিকার সময় পারিবারিক তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করিয়া পূর্ব পরিকল্পিতভাবে উল্লেখিত বিবাদীরা অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোকজনদের নিয়া বেআইনী জনতাবদ্ধ হইয়া এসএস পাইপ, লোহার রড, কাঠের ডাসা, ধারালো চাপাতি সহ বিভিন্ন প্রকার দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়া সদর থানাধীন গোয়ালঘুন্নি সাকিনস্থ আমার বসত ঘরে অনাধিকার প্রবেশ করিয়া বিবাদীরা আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করিয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিলঘুষি ও লাথি মারিয়া নীলাফোলা জখম করে।
১নং বিবাদী এসএস পাইপ দিয়া আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথা লক্ষ্য করিয়া বারি মারিলে, আমি সরিয়া গেলে উক্ত বারি আমার পিঠের উপরে লাগিয়া নীলাফোলা জখম হয়। আমাকে রক্ষা করিতে আমার দুই মামা ১) সোহাগ (৪০), ২) সুমন (৫০), খালা সনিয়া বেগম (৪৫), আমার মাতা সালমা বেগম (৪৮), আমার ছোট বোন সামিয়া আক্তার (২০) আগাইয়া আসিলে বিবাদীরা তাদের শরীরের বিভিন্নস্থানে এলোপাথারী মারধর করিয়া জখম করে। ৩নং বিবাদী লোহার রড দিয়া আমার মামা সোহাগকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথা লক্ষ্য করিয়া বারি মারিলে ডান হাত দিয়া ফেরাইলে উক্ত বারি আমার মামা সোহাগের ডান হাতের আঙ্গুলে লাগিয়া হাড় মোচকানো জখম করে। উক্ত বারির আগাতে মামা সোহাগ মাটিতে লুটাইয়া পরিলে ২নং বিবাদী লোহার রড দিয়া তার মাথা, হাতে-পায়ে সহ শরীরের বিভিন্নস্থানে এলোপাথারী বাইরাইয়া নীলাফোলা জখম করে। ২নং বিবাদী লোহার রড দিয়া আমার মামা সুমনকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথা লক্ষ্য করিয়া বারি মারিলে, সরিয়া গেলে উক্ত বারি সুমনের পিঠের উপরে লাগিয়া নীলাফোলা জখম হয়। ৫নং বিবাদী কাঠের ডাসা দিয়া আমার খালা সনিয়া আক্তারকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথা লক্ষ্য করিয়া বারি মারিলে তিনি সরিয়া গেলে উক্ত বারি আমার খালার ডান পায়ের হাটুর উপরে লাগিয়া গুরুতর হার মোচকানো জখম করে। উল্লেখিত বিবাদীরা এবং অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসী লোকজনেরা লোহার রড, কাঠের ডাসা ও এস এস পাইপ দিয়া আমার মাতা এবং বোনের শরীরের বিভিন্নস্থানে উপর্যপুরি এলোপাথারী বাইরাইয়া নীলাফোলা জখম করে।
আমাদের ডাক-চিৎকার শুনিয়া আশেপাশের লোকজন আগাইয়া আসিলে বিবাদীরা আমাদের হুমকি দিয়া বলে, আমাকে আমার স্ত্রীর সাথে সংসার করিতে দিবে না এবং এই বিষয় নিয়া বেশি বাড়াবাড়ি করিলে বিবাদীরা আমাকে সহ আমার পিতার বাড়ির সদস্যদের খুন করিয়া লাশ গুম করিয়া ফেলিবে বলিয়া ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করিয়া জোরপূর্ব আমার স্ত্রী লবানী এবং আমার মেয়ে মুসকান (২) কে তাদের সাথে নিয়া যাইয়া আমার সাথে সকল প্রকার যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সহায়তায় আমরা মুন্সিগঞ্জ সদর জেনারেল হাসপাতালে আসিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আমাদের চিকিৎসা প্রদান করে। চিকিৎসা কাজে ব্যস্ত থাকায় এবং উক্ত বিষয়টি পারিবারিকভাবে আলোচনা করিয়া থানায় হাজির হইয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি।।
এবিষয়ে হাতিমারা তদন্ত পুলিশ ফাড়ি এসআই মোঃ জয়নাল আবেদীন তিনি বলেন, একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্তে সাপেক্ষে আইননুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।